নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখার অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম ও ভাটারা এলাকা থেকে ১২ নারীকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১। উদ্ধার হওয়া নারীদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরী রয়েছে। তাঁদের চীনে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্চ বেতনে চাকরি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে জানা যায়।
এসআরবি-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপারেশনস ও মিডিয়া) শাহ আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এসআরবি- তথ্য মতে সোমবার বিকেল ৩টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার যমযম টাওয়ার-সংলগ্ন এলাকা থেকে মেমাচি মারমা (১৫) ও মাংশানু মগনি (১৮) নামের দুজনকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুজনের দেওয়া তথ্য এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় করা সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে ভাটারা থানাধীন একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। সোমবার রাত ৮টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে আরও ১০ নারীকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার কৃত অন্য ১০ জন হলেন রেখা চাকমা (২৮), ক্যানচি চাকমা (২২), বিরুপতি চাকমা (২৮), পূণ্যরেখা চাকমা (২৮), চাইছাইও মার্মা (২২), কৃষ্টিনা রোয়ালময় বৈল্টুং (১৯), পুষ্পিতা চাকমা (২১), পিংকি চাকমা (১৫), ববিতা চাকমা (২৭) ও আদর্শী চাকমা (২১)।
এসআরবি-১-এর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া নারীরা জানান, তাঁদের চীনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে উচ্চ বেতনে চাকরি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। পরে বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়াই বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে একটি বাসায় আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়ানোর প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এসআরবি-১ জানায়, প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে উদ্ধার হওয়া ১২ নারীকে তাঁদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।