বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
রূপগঞ্জে যুবদল নেতা রিপন হত্যা মামলার আসামি সারোয়ার গ্রেপ্তার ৩৫ বছর পত্রিকা বিক্রি করে মোস্তফার আক্ষেপ ‘আর পারা যাচ্ছে না’ সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বন্ধুত্বের টানে রাজধানীতে ‘ফ্রেন্ডস অব ঢাকা নিউমার্কেট ২০০০’-এর পুনর্মিলনী রূপগঞ্জে দাউদপুর ইউনিয়নের ওলামা মাশায়েখদের নিয়ে মতবিনিময় সভা মধ্যরাতে ভারী বৃষ্টিতে পানির নিচে পাতায়া, ডুবল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ওসির বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের পিপিএম-সেবা পদক পেলেন কুষ্টিয়ার মনজুর রহমান তিক্ত স্বাদের আড়ালে লুকানো প্রাকৃতিক ওষুধ- চিরতা এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণে ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫, নতুন জিপিএ-৫ পেল ৩০৭৯
৩৫ বছর পত্রিকা বিক্রি করে মোস্তফার আক্ষেপ ‘আর পারা যাচ্ছে না’

৩৫ বছর পত্রিকা বিক্রি করে মোস্তফার আক্ষেপ ‘আর পারা যাচ্ছে না’

 

দেবব্রত দাস :
ভোর হলেই সাইকেলে পত্রিকার বোঝা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন মোস্তফা মাদবর। মানুষের হাতে তুলে দেন দেশ-বিদেশের খবর। অথচ নিজের সংসারের অভাব দূর করতে পারছেন না ৪৮ বছর বয়সী এই মানুষটি। একসময় দিনে ১ হাজার ২০০ কপি পত্রিকা বিক্রি করতেন, এখন বিক্রি হয় মাত্র ২৩০ কপি। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে পরিশ্রম করেও স্ত্রী, দুই ছেলে ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে একটি ঝুপড়ি ঘরে ভাড়া থাকেন মোস্তফা। প্রতি মাসে ঘরভাড়া দিতে হয় ৩ হাজার ৫০০ টাকা। পত্রিকা বিক্রির আয় থেকে ভাড়া পরিশোধের পর খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের চিকিৎসার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়ে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম তাঁর সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
একসময় ছাপা পত্রিকার চাহিদা বেশি থাকায় ভালো বিক্রি হতো। সময়ের সঙ্গে পাঠকের খবর পড়ার অভ্যাস বদলেছে, কমেছে পত্রিকার বিক্রিও। কিন্তু মোস্তফার সংসারের প্রয়োজন কমেনি। প্রতিদিনের আয় দিয়ে পরিবারের সবার চাহিদা পূরণ করতে না পারার কষ্ট তাঁকে তাড়া করে ফেরে।
দুই ছেলে আলামিন মাদবর (২২) ও ইয়াছিন মাদবরের (১৪) ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন। চান, ছেলেরা লেখাপড়া করে নিজেদের পায়ে দাঁড়াক। পাশাপাশি বৃদ্ধ মায়ের চিকিৎসা ও পরিবারের খাবারের ব্যবস্থাও করতে হয় তাঁকে। সীমিত আয়ে সব দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিসাব মেলাতে হয়।
ঈদ কিংবা উৎসবের সময়ও স্বস্তি ফেরে না সংসারে। অন্যরা যখন পরিবারের জন্য নতুন পোশাক ও ভালো খাবারের আয়োজন করেন, তখন মোস্তফার চিন্তা থাকে ঘরভাড়া আর নিত্যদিনের খরচ নিয়ে। পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটাতে চান তিনি, কিন্তু সামর্থ্যের অভাব বারবার তাঁর সেই ইচ্ছায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
নিজের জীবনের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে মোস্তফা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আর পারা যাচ্ছে না।’
তাঁর এই কথায় ধরা পড়ে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পরও একটু স্বস্তিতে বাঁচতে না পারার বেদনা। বয়স বাড়ছে, অথচ জীবিকার নিশ্চয়তা নেই। আর কত দিন সাইকেল চালিয়ে পত্রিকা বিক্রি করতে পারবেন, তা-ও জানেন না তিনি।
প্রতিদিন মানুষের কাছে অন্যের জীবনের খবর পৌঁছে দেন মোস্তফা। অথচ তাঁর নিজের জীবনের গল্পটি অভাব আর অনিশ্চয়তায় ঘেরা। দিন শেষে ক্লান্ত শরীরে ঘরে ফিরেও নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। পরদিন আবারও সাইকেলে পত্রিকার বোঝা নিয়ে পথে নামতে হবে তাঁকে। কারণ, তাঁর উপার্জন বন্ধ হলে অনিশ্চয়তায় পড়বে স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধ মায়ের জীবন।
মোস্তফার চাওয়া খুব বেশি নয়। পরিবারের খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা আর মায়ের চিকিৎসার খরচ মিটিয়ে একটু নিশ্চিন্তে বাঁচতে চান তিনি। ৩৫ বছরের পরিশ্রমের বিনিময়ে সেই স্বস্তিটুকুও আজ তাঁর অধরা। তাই ক্লান্তি আর হতাশা নিয়েও প্রতিদিন নতুন করে লড়াই শুরু করেন তিনি। মানুষের হাতে খবর পৌঁছে দিতে দিতে নিজের জীবনের কষ্টগুলো আড়ালেই থেকে যায়।@news36hd #





স্বত্ব © ২০২৫ নিউজ ৩৬ এইসডি ।
Design & Developed BY POPCORN IT