মাহবুব আলম প্রিয়, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
দীর্ঘ ছয় দশকের স্মৃতি, ঐতিহ্য আর বন্ধুত্বের বন্ধনে আবারও এক ছাদের নিচে মিলিত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মর্তুজাবাদ কামিল (মাস্টার্স) মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে হীরক জয়ন্তী উদযাপনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রস্তুতি সভা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে আয়োজিত এ সভায় মাদরাসার বিভিন্ন ব্যাচের অর্ধশতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা, শিক্ষাজীবনের স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করা এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রস্তুতি সভায় সাবেক শিক্ষার্থী মফিজুল ইসলামের প্রস্তাব এবং অ্যাডভোকেট ইস্রাফিল হোসেনের উদ্যোগে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর মতামত ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এক হাজারের বেশি সাবেক শিক্ষার্থীর মিলনমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জমকালো হীরক জয়ন্তী উদযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
অনুষ্ঠান সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ভারগাঁও দাখিল মাদরাসার সুপার ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মো. ফজলুল হককে সভাপতি, অ্যাডভোকেট ইস্রাফিল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক এবং আধুরিয়া মাদরাসার সহকারী সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে অর্থ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
মাদরাসার অধ্যক্ষ আ.ন.ম. বোরহান উদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের উপদেষ্টা হিসেবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
হীরক জয়ন্তী উদযাপনকে সুশৃঙ্খল ও স্মরণীয় করে তুলতে কয়েকটি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘স্মৃতির পাতায় আমরা’ শীর্ষক স্মরণিকা প্রকাশ কমিটি, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা কমিটি, শিক্ষকদের সম্মাননা ও উপহার প্রদান কমিটি, আপ্যায়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এবং ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা কমিটি। প্রতিটি উপকমিটিতে পাঁচজন করে সদস্য রাখা হয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, দীর্ঘ ছয় দশকের পথচলায় মর্তুজাবাদ কামিল মাদরাসা অসংখ্য শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও জীবন গঠনের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। হীরক জয়ন্তীর এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ ও সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে উঠবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, শিক্ষকদের সান্নিধ্যে ফিরে যাওয়া এবং ফেলে আসা দিনের স্মৃতি ভাগাভাগি করার অপেক্ষায় রয়েছেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ৬০ বছর পূর্তির এই আয়োজন হয়ে উঠবে স্মরণীয় এক মিলনমেলা।