সালাউদ্দিন কক্সবাজার থেকে ঃ
জীবনের ১২টি বছর কেটেছে অন্যের চায়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে। চা বানানো থেকে শুরু করে ক্রেতাদের আপ্যায়ন, দোকান পরিচালনা—সবকিছুই শিখেছেন দীর্ঘ কর্মজীবনে। সেই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে চার বছর আগে নিজেই শুরু করেন ব্যবসা। এখন প্রতিদিন তাঁর দোকানে বিক্রি হয় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কাপ চা। বলছি কক্সবাজারের কলাতলী সি-ব্লকের ‘জিরো ভ্যালি কফি শপ’-এর স্বত্বাধিকারী সাজ্জাদ হোসেনের কথা।
একসময় অন্যের দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন সাজ্জাদ। দীর্ঘ ১২ বছরের অভিজ্ঞতার পর নিজের কিছু করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সেই স্বপ্ন থেকেই চার বছর আগে কলাতলীতে গড়ে তোলেন ছোট্ট এই কফি শপ। শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে ক্রেতাদের কাছে পরিচিতি পেতে শুরু করে তাঁর প্রতিষ্ঠান।
দোকানটি আকারে খুব বড় নয়। তবে সাজসজ্জা, খাবারের বৈচিত্র্য এবং ক্রেতাদের জন্য কিছু ব্যতিক্রমী নির্দেশনার কারণে আলাদা নজর কাড়ে। নীল রঙের দোকানটির সামনে রয়েছে ‘জিরো ভ্যালি কফি শপ’ লেখা সাইনবোর্ড। পাশাপাশি রয়েছে আরেকটি হলুদ রঙের নির্দেশনামূলক বোর্ড, যেখানে ক্রেতাদের উদ্দেশে লেখা হয়েছে বেশ কিছু মজার অথচ তাৎপর্যপূর্ণ কথা।
বোর্ডে বলা হয়েছে, খাবার নিয়ে অযথা মন্তব্য না করতে, এক কাপ চা নিয়ে দুই কাপ করার কথা না বলতে, চেয়ার নির্দিষ্ট স্থান থেকে না সরাতে এবং টিস্যু ব্যবহারের আগে সেটি কোথায় ফেলতে হবে তা ভাবতে। এমনকি নিজের সামান্য ক্ষতির চেয়ে অন্যের ক্ষতি অনেক বড় হতে পারে—এমন সচেতনতামূলক বার্তাও রয়েছে সেখানে।
দোকানে শুধু চা নয়, রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পানীয় ও খাবার। মেনুতে রয়েছে চা, কফি, দুধ-চিড়া, দই, ফিরনি, পায়েস, শাহি জিলাপিসহ নানা আয়োজন। পণ্যভেদে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ টাকা পর্যন্ত।
প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ কাপ চা বিক্রি হয় বলে জানান সাজ্জাদ। দোকান পরিচালনায় তাঁকে সহযোগিতা করেন তাঁর ছেলে ও একজন কর্মচারী। নিজের ব্যবসা হলেও তিনি নিয়মিত সময় দেন দোকানে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ব্যবসাটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সাজ্জাদের কাছে এই দোকান শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়, বরং দীর্ঘদিনের শ্রম ও অভিজ্ঞতার ফসল। অন্যের প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছেন, একটি ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পরিশ্রম, ধৈর্য ও ক্রেতাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সাজ্জাদের ভাবনা বেশ সহজ। তিনি নিজের এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান। পাশাপাশি তাঁর ছেলেরা ভবিষ্যতে আগ্রহী হলে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। অর্থাৎ নিজের পরিশ্রমে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী প্রজন্মের হাতেও তুলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
কক্সবাজারের ব্যস্ত পর্যটন এলাকার ছোট্ট একটি চায়ের দোকানে প্রতিদিন শত শত কাপ চা বিক্রির পেছনে রয়েছে একজন মানুষের দীর্ঘ শ্রম, অভিজ্ঞতা ও আত্মনির্ভর হওয়ার গল্প। ১২ বছর অন্যের দোকানে কাজ করা সেই মানুষটিই আজ নিজের প্রতিষ্ঠানের মালিক। সাজ্জাদের এই পথচলা প্রমাণ করে, অভিজ্ঞতা আর পরিশ্রমকে কাজে লাগাতে পারলে ছোট উদ্যোগও হয়ে উঠতে পারে স্বপ্ন পূরণের ঠিকানা।