নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
পরিবেশ অধিদপ্তরের একাধিক অভিযান ও জরিমানার পরও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মৈকুলী এলাকার বিক্রমপুর স্টিল মিলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে কালো ধোঁয়া নির্গমন ও শ্রমিক নিরাপত্তায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভাট্টি বিস্ফোরণে এক শ্রমিক নিহতের ঘটনায় কারখানাটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ১৯ জানুয়ারি দিবাগত রাত ২টার দিকে কারখানার লোহা গলানোর ভাট্টিতে বিস্ফোরণে আলম হোসেন ও বরকত নামে দুই শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলম হোসেন মারা যান। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই একই ধরনের দুর্ঘটনায় বেল্লাল, রোমান ও রাব্বানী নামে তিন শ্রমিক দগ্ধ হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক দুর্ঘটনার পরও কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। ভাট্টির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, তাপমাত্রা ও চাপ নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে কারখানাটির বিরুদ্ধে বায়ুদূষণের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। ২০২৫ সালের ১২ মে অভিযানে ২ লাখ টাকা এবং পরবর্তী আরেক অভিযানে আরও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, জরিমানার পরও চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া নির্গমন বন্ধ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াছিন মোল্লা বলেন, কারখানার কালো ধোঁয়া আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যও ঝুঁকিতে পড়ছে।
চিকিৎসক মুজিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন দূষিত ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, সিওপিডি ও ফুসফুসের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, শিল্পায়ন প্রয়োজন, তবে শ্রমিকের জীবন ও পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সেই উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। কারখানাটিতে নিয়মিত পরিদর্শন ও নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জের উপমহাপরিদর্শক রাজীব চন্দ্র ঘোষ বলেন, বিক্রমপুর স্টিল মিলে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় মামলা চলমান রয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত এবং সেখানে ৮০ জন শ্রমিক কাজ করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এএইচএম রাশেদ বলেন, বিক্রমপুর স্টিল মিলস লিমিটেডের কালো ধোঁয়া ও অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে কারখানাটির ম্যানেজার সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
শ্রমিক নিহত, একাধিক দুর্ঘটনা, বায়ুদূষণের অভিযোগ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিমানা—সব মিলিয়ে বিক্রমপুর স্টিল মিলের পরিবেশ ও শ্রমিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন করে পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণের পাশাপাশি কালো ধোঁয়া নির্গমন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।