শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
রূপগঞ্জের কায়েতপাড়ায় গভীর রাতে বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় প্রাণবন্ত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল আ্যান্ড কলেজের ট্যালেন্ট হান্ট পূর্বাচল লেকে কলেজছাত্র হত্যা: দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে লাশ ডুবিয়ে রাখে ৫ বন্ধু, ১২ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন; গ্রেপ্তার ২ কাঞ্চন পৌরসভার  নোয়াগাঁও প্রিমিয়ার লীগ  ফাইনাল ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চার খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীর গণসংযোগ: উন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার  প্রতিশ্রুতি সুস্থতার জন্য ভারতে, দেশে ফেরার আগেই আগুনে গেল জীবন এমপি দিপু ভূইয়ার সঙ্গে মিল্কভিটার নতুন কমিটির সাক্ষাৎ পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেপ্তার, সহযোগীও আটক আড়াইহাজারে ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান, দোকান বন্ধ করে পালালেন দুই শতাধিক ওষুধ ব্যবসায়ী
আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: জাতির ইতিহাসে এক গভীর বেদনার দিন

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: জাতির ইতিহাসে এক গভীর বেদনার দিন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আজ ১৪ ডিসেম্বর—শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এই দিনটি এক গভীর শোক, বেদনা ও কলঙ্কময় অধ্যায়ের স্মারক। মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের ঠিক আগমুহূর্তে স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে মেধাশূন্য করার নীলনকশা বাস্তবায়নে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী পরিকল্পিতভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়জুড়েই বুদ্ধিজীবী নিধনের ঘটনা ঘটে। তবে বিজয়ের প্রাক্কালে ১৪ ডিসেম্বর এই হত্যাযজ্ঞ ভয়াবহ রূপ নেয়। তালিকা প্রণয়ন করে দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতি কর্মীদের বাড়ি থেকে কিংবা কর্মস্থল থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে তাদের হত্যা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী আল-বদর সদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও সংস্কৃতিকর্মীদের অপহরণ করে। পরে রায়েরবাজার ও মিরপুর এলাকায় নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাদের। বর্তমানে এই দুটি স্থান বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

বিশেষ করে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আল-বদর বাহিনী আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে মোহাম্মদপুরের ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে স্থাপিত তাদের ঘাঁটিতে আটক রেখে নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অনেক গুণীজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, ডা. আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, ড. ফজলে রাব্বী, সিরাজ উদ্দিন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, অধ্যাপক জিসি দেব, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক রশীদুল হাসান, ড. আবুল খায়ের, ড. মুর্তজা, সাংবাদিক খন্দকার আবু তাহের, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এস এ মান্নান (লাডু ভাই), এ এন এম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক ও সেলিনা পারভিনসহ অসংখ্য বরেণ্য ব্যক্তি রয়েছেন।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস শুধু শোকের দিন নয়, এটি জাতির জন্য এক গভীর আত্মসমালোচনার উপলক্ষও। এই দিনে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে সেইসব মহান মানুষদের, যাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের অঙ্গীকার।

#NEWS36hd#

 





স্বত্ব © ২০২৫ নিউজ ৩৬ এইসডি ।
Design & Developed BY POPCORN IT