রূপগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের লেক থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান দিগন্তের মরদেহ উদ্ধারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে পাঁচ বন্ধু মিলে দিগন্তকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলসহ লেকের পানিতে ডুবিয়ে রেখে দুর্ঘটনার নাটক সাজানো হয়। এ ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন।
নিহত মেহেদী হাসান দিগন্ত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়াবো মোল্লাপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। সে গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কের সুলফিনা ভূঁইয়া বাড়ি ব্রিজের নিচে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লেকের পানিতে পড়ে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন—এমন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
এ সময় লেকের পাশে থাকা নিখোঁজ দিগন্তের সঙ্গে থাকা তুহিনের গতিবিধি পুলিশের সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই গাজীপুর থেকে আরেক অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আলম মাহমুদকে আটক করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল লেকের পানিতে অভিযান চালিয়ে দিগন্তের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
সট: ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুইজন জানায়, তারা দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় দিগন্তের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরে প্রায় দুই বছর পর পূর্বপরিকল্পিতভাবে দিগন্তকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
শুক্রবার রাতে পাঁচ বন্ধু তিনটি মোটরসাইকেলে করে দিগন্তকে নিয়ে পূর্বাচলে ঘুরতে আসে। পরে কৌশলে তাকে সুলফিনা ভূঁইয়া বাড়ি ব্রিজের নিচে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে দিগন্তের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ লেকের পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। পরে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দিগন্ত পানিতে পড়ে মারা গেছে—এমন নাটক সাজানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।