বিশেষ প্রতিবেদন:
নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ এলাকায় শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন মহাতীর্থ অষ্টমী স্নান উৎসব। পাপমুক্তি ও পুণ্য লাভের আশায় দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো পুণ্যার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদ তীরবর্তী প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা।
শাস্ত্রীয় তিথি অনুযায়ী বুধবার বিকাল ৫টা ১৭ মিনিটে পুণ্যস্নানের লগ্ন শুরু হয়। লগ্ন শুরু হতেই নদের দু’পাড়ের ২৪টি ঘাটে নেমে আসে পুণ্যার্থীদের ঢল। নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
ভক্তরা নদীতে স্নান করে প্রার্থনা করছেন ব্যক্তিগত পাপমুক্তি, পারিবারিক কল্যাণ এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য।
প্রতি বছরের মতো এবারও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই বৃহৎ সমাগমে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেক তীর্থযাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে এসে আগের দিনই লাঙ্গলবন্দ এলাকায় অবস্থান নেন। কেউ কেউ রাতভর পূজা-অর্চনা ও ভজন-সঙ্গীতে অংশ নেন। নদীর তীরে অস্থায়ী দোকানপাট, প্রসাদ বিক্রি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সামগ্রীর স্টল বসায় জমে উঠেছে উৎসবের আমেজ। দুই দিনব্যাপী এ স্নানোৎসব চলবে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ঘাটে পুণ্যার্থীরা স্নান সম্পন্ন করবেন।
এদিকে, উৎসবকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পুণ্যার্থীদের নির্বিঘ্নে স্নান নিশ্চিত করতে প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি র্যাব, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। নদীর ঘাটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস ইউনিট এবং উদ্ধার নৌযান। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রতিটি ঘাটে আলাদা মনিটরিং টিম কাজ করছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, হিন্দু ধর্মের দেবতা পরশুরাম হিমালয়ের মানস সরোবরে স্নান করে পাপমুক্ত হন। সেই কাহিনীকে স্মরণ করে প্রতি বছর চৈত্র মাসে এই দিনে লাখ লাখ তীর্থযাত্রী লাঙ্গলবন্দে এসে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে পুণ্যস্নানে অংশ নেন। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের এই মিলনমেলা শুধু একটি আচার নয়, বরং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত। স্থানীয় বাসিন্দারাও উৎসবে অংশ নিয়ে আগত পুণ্যার্থীদের সহায়তা করছেন, যা এ আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
#viral#