নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পল্টুনে ওঠার সময় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় পদ্মা পাড়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
জানা গেছে, সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজবাড়ী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায় এবং দ্রুত তলিয়ে যায়।
এ পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল দুইজন নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বৃষ্টির কারণে প্রাথমিকভাবে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। তবে বর্তমানে পূর্ণোদ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।
ঘটনার পর থেকে স্বজনরা ছুটে আসছেন দৌলতদিয়া ঘাটে। নিখোঁজদের সন্ধানে তারা অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের কান্না ও আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
নিখোঁজদের স্বজন রোকন জানান, তার বন্ধুর ছোট বোন ফাতেমা তুজ জোহরা এবং তার স্বামী কাজী সাইফ আহমেদ ওই বাসে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘাটে এলেও এখনো তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি।
অপর এক স্বজন শরিফুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, ভাগ্নি ও ভাগ্নির সন্তান ওই বাসে ছিলেন। তাদের মধ্যে স্ত্রী, মেয়ে ও ভাগ্নি সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও সাত বছরের ছেলে এবং ১১ বছর বয়সী ভাগ্নে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তিনি সন্তানের খোঁজ না পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েন।
এদিকে নবীজ উদ্দিন নামের আরেক ব্যক্তি তার নাতি-নাতনির জন্য ঘাটে অপেক্ষা করছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি তাদের ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানসহ বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়েছেন।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।