নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
যে বয়সে একটি শিশু খেলনা হাতে দৌড়ে বেড়ায়, মায়ের আঁচল ধরে নিরাপত্তা খোঁজে, ঠিক সেই বয়সেই প্রতিদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে ছোট্ট মর্তুজা আলি ভূইয়া। মাত্র চার বছর বয়সী এই নিষ্পাপ শিশুটি আক্রান্ত হয়েছে ভয়ংকর মরণব্যাধি ক্যান্সারে। যন্ত্রণার ভারে নুয়ে পড়া মর্তুজার জীবনের গল্প শুনে ও সামনে থেকে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম।রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মর্তুজা আলি ভূইয়া।
চিকিৎসক বলেন , মুর্তুজার ক্যান্সারের ভয়াবহতা এতটাই বেড়েছে যে তার ডান চোখ অপসারণ করতে হয়েছে। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেনি দুঃসংবাদ—অপারেশনের পর জানা যায়, রোগটি শরীরের আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিটি দিন এখন মর্তুজার জন্য নতুন এক যুদ্ধ।
মর্তুজার পরিবার পরিস্থিতি আরও করুণ। বহু আগেই তার বাবা পরিবার ছেড়ে চলে গেছেন এবং অন্যত্র বিয়ে করেছেন। ফলে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুটির চিকিৎসার সমস্ত দায়ভার এসে পড়েছে তার মা শিল্পী বেগমের ওপর। একা এই মা বুকভরা কষ্ট আর সীমাহীন অসহায়ত্ব নিয়ে সন্তানের জীবন বাঁচাতে ছুটে বেড়াচ্ছেন হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে। চোখের জল লুকিয়ে তিনি শুধু একটি কথাই বলেন, আমার ছেলেটাকে বাঁচান।
চিকিৎসকদের মতে, মর্তুজাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে ৭ থেকে ৮টি কেমোথেরাপি প্রয়োজন। এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে, যা এই দরিদ্র মায়ের পক্ষে কোনোভাবেই জোগাড় করা সম্ভব নয়। প্রতিদিন অর্থের অভাবে থমকে যাচ্ছে চিকিৎসার পথ, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।
এমন অবস্থায় শিশুটির খোঁজ নিতে গিয়ে মর্তুজার পাশে দাঁড়ান ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম। শিশুটির মুখে যন্ত্রণা আর চোখে বাঁচার আকুতি দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, আজ আমি একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয়, একজন বাবা ও মানুষ হিসেবে ভেঙে পড়েছি। একটি শিশুর এমন কষ্ট সহ্য করার কথা নয়।
ইউএনও সাইফুল ইসলাম জানান, রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মর্তুজার চিকিৎসায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি তিনি সমাজের বিত্তবান, সহানুভূতিশীল ও মানবিক মানুষদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনের পক্ষে সব করা সম্ভব নয়। আজ যদি আমরা সবাই একটু করে এগিয়ে আসি, তাহলে হয়তো একটি শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, আজ আমরা যদি মর্তুজার পাশে দাঁড়াই, হয়তো আগামীকাল সে আবার হাসবে, খেলবে, নতুন করে পৃথিবী দেখবে।
চার বছরের একটি শিশুর জীবন এখন নির্ভর করছে সমাজের মানবিকতার ওপর। মর্তুজাকে বাঁচাতে প্রয়োজন আমাদের সম্মিলিত সহানুভূতি ও সহযোগিতা। এখনই সময়—একটি নিষ্পাপ প্রাণের পাশে দাঁড়ানোর।