বিনোদন ডেস্কঃ
বলিউড অভিনেত্রী ও প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া সেলিনা জেটলি স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার গুরুতর অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন। অস্ট্রিয়ান নাগরিক হাগের হাতে দীর্ঘদিন শারীরিক, মানসিক, যৌন ও মৌখিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ৪৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ২১ নভেম্বর মুম্বাইয়ের আদালতে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইনের ২(এ) ধারায় মামলা দায়ের করেন তিনি। এতে সেলিনা মাসিক ১০ লাখ রুপি ভরণপোষণ এবং ৫০ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। একইসঙ্গে সন্তানদের সঙ্গে ‘নিরবচ্ছিন্ন ভার্চুয়াল ও ফোনে যোগাযোগের’ সুযোগ চান তিনি। বর্তমানে সন্তানরা অস্ট্রিয়ায় পিটারের হেফাজতে রয়েছে এবং কোনো যোগাযোগের সুযোগও দেন না হাগ—এ অভিযোগ মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয় আন্দেরির বিচারবিভাগীয় হাকিম এস.সি. টাডির আদালতে। অভিযোগ পর্যালোচনা শেষে বিচারক পিটার হাগের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করেন। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ ডিসেম্বর। সেলিনার পক্ষে করঞ্জাওয়ালা অ্যান্ড কো.–এর একটি আইনজীবী দল মামলা পরিচালনা করছে।
২০১০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বিয়ে হয় সেলিনা–পিটারের। তাদের চার সন্তানের মধ্যে তিনজন জীবিত। সেলিনার অভিযোগ—বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে কাজ করতে নিষেধ করতেন পিটার, ফলে হারিয়ে ফেলেন আর্থিক স্বাধীনতা ও ক্যারিয়ারের নিয়ন্ত্রণ। ক্রমাগত মানসিক চাপে তার ব্যক্তিত্ব ভেঙে পড়তে থাকে। এমনকি মুম্বাইয়ের নিজের বাড়িটি চাপ সৃষ্টি করে পিটারের নামে লিখে নিতে বাধ্য করা হয়।
মামলায় পিটার হাগকে ‘আত্মকেন্দ্রিক, আত্মমগ্ন, রাগী ও মদ্যপান–নির্ভর’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন সেলিনা। অভিযোগে বলা হয়েছে, পিটার ধীরে ধীরে প্রতারণার মাধ্যমে সেলিনার সম্পত্তি ও আর্থিক বিষয়গুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। নবজাতক সন্তানের মৃত্যু এবং বাবা–মায়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অবস্থায় আরও বেশি নির্যাতনের শিকার হন তিনি।
অভিযোগের সবচেয়ে শোকাবহ অংশ—নির্যাতনের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে একপর্যায়ে সন্তানদের রেখে রাতের অন্ধকারে অস্ট্রিয়া থেকে পালিয়ে ভারতে ফিরতে বাধ্য হন অভিনেত্রী।
২০১১ সালে পিটারকে বিয়ে করেন সেলিনা। ২০১২ সালে প্রথম জমজ সন্তান উইন্সটন ও ভিরাজের জন্ম। ২০১৭ সালে জন্ম নেয় দ্বিতীয় জমজ—শমসের ও আর্থার; পরে শমসের মারা যায়।
ব্যক্তিগত জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সামনে এনে এখন ন্যায়বিচার চান সেলিনা জেটলি। ভারতের বিনোদন অঙ্গনে ঘটনাটি তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।