বিনোদন প্রতিবেদকঃ
তিন-চার বছর আগেও কেউ যদি বলত, মানুষ টাকা খরচ করে অনলাইনে কনটেন্ট দেখবে, অনেকে বিশ্বাস করতেন না। অথচ এখনকার বাস্তবতা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বাংলাদেশে ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মের উত্থান যেমন আশাজাগানিয়া, তেমনি চমকপ্রদও। পাইরেসির সমস্যা এখনও থাকলেও, দর্শক ধীরে ধীরে বৈধ প্ল্যাটফর্মে অভ্যস্ত হচ্ছে—যা নতুন গল্প বলার সাহস দিচ্ছে নির্মাতাদের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে “কানেকশন” — দর্শকের সঙ্গে গল্পের মানবিক যোগসূত্র। “কারাগার ২”-এর ওসি হারুন যেমন ভালো-মন্দের মাঝের এক জটিল মানুষ, তেমনি তাকদীর ও মন্টুর ভ্রাতৃত্বের গল্পও সমাজের খুব কাছের। এসব চরিত্র বাস্তব জীবনের প্রতিফলন, যাদের মাধ্যমে নির্মাতারা সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
“দ্বিখণ্ডিত” বা “নুহাশ হুমায়ূনের” মতো সিরিজগুলোতে দেখা যায়, ফ্যান্টাসি বা মিথও যখন বাঙালিয়ানার ছোঁয়ায় উপস্থাপিত হয়, তখন তা দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে। বিদেশি কনসেপ্ট থাকলেও, প্রেজেন্টেশনে থাকে দেশীয় ভাব — সেটাই কাজগুলোকে “রিলেটেবল” করে তোলে।
“মহানগর ২”, “কাইজার”, “কারাগার” — প্রতিটি সিরিজই ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেছে। কেউ নস্টালজিয়ায় ভাসছে, কেউ প্রিয় অভিনেতাদের নতুন করে আবিষ্কার করছে, কেউবা গল্পের মাঝে লুকানো ইঙ্গিত ও তত্ত্ব বিশ্লেষণ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন প্রয়োজন আরও বহুমাত্রিক গল্প—মিডল ক্লাস পরিবারের সংগ্রাম, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বাস্তবতা, মুক্তিযুদ্ধের অজানা অধ্যায়, কিংবা কিশোর প্রেমের মিষ্টি গল্প। তবে সবকিছুর মাঝে যেন থাকে ‘বাঙালিয়ানা’—কারণ বাঙালি দর্শক নিজের অস্তিত্ব, নিজের সংস্কৃতির ছায়া না পেলে খুব দ্রুতই মুখ ফিরিয়ে নেয়।
বাংলা ওটিটি কনটেন্টের এই নবযাত্রা প্রমাণ করছে—ভালো গল্প, মানসম্মত নির্মাণ আর সাংস্কৃতিক পরিচয়—এই তিনের সংমিশ্রণই এখন দেশের বিনোদনের নতুন সংজ্ঞা।