নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নরসিংদীতে দিন দিন বাড়ছে বিলাতি ধনিয়া পাতার চাষ। কম খরচে বেশি লাভ এবং বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে জেলার শিবপুর, বেলাবো ও মনোহরদী উপজেলার কৃষকেরা এখন এই মসলা জাতীয় ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। আকার, স্বাদ ও গন্ধে অনন্য এই ধনিয়া পাতা এখন জেলার অন্যতম সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের কৃষক জজ মিয়া (৬০) বলেন, ১০ শতক জমিতে বিলাতি ধনিয়া পাতার চাষ করেছি। ইতোমধ্যে ৭২ হাজার টাকার পাতা বিক্রি করেছি। আরও ১২-১৫ হাজার টাকার পাতা বিক্রি করা যাবে। তার এই আবাদে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৮ হাজার টাকা।
একই এলাকার কৃষাণী জুলেখা বেগম (৫০) জানান, ৮ শতক জমিতে ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে ধনিয়া পাতার চাষ করে এখন পর্যন্ত ৪৮ হাজার টাকার পাতা বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, এই পাতা চাষে সার ও পানি কম লাগে, তাই খরচও কম, লাভও বেশি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি বিলাতি ধনিয়া পাতা বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। বেলাবো উপজেলার বটেশ্বরে গড়ে উঠেছে ধনিয়া পাতার পাইকারি বাজার, যেখানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা আসেন। পাইকারি বিক্রেতা আব্দুল আলীম বলেন, “আমি এখান থেকে ১৪০-১৮০ টাকা দরে পাতা কিনে ঢাকায় পাঠাই। সব খরচ বাদে কেজিপ্রতি ৮-১০ টাকা লাভ হয়।
নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ৫৫ একর জমিতে বিলাতি ধনিয়া পাতা চাষ হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এই ফসলের জন্য মাটি বা আবহাওয়া কোনো বাধা নয়—অনাবাদি জমি, বালুময় মাটি কিংবা ফলবাগানেও এর ভালো ফলন পাওয়া যায়।
বেলাবো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহিবুবুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, “বিলাতি ধনিয়া পাতা এখন একটি লাভজনক ফসল। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে এক বিঘা জমি থেকে তিন থেকে চার লাখ টাকার ধনিয়া পাতা বিক্রি সম্ভব।
এদিকে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু কাউছার সুমন জানান, ধনিয়া পাতায় রয়েছে ভিটামিন এ, সি ও কে। এগুলো ত্বক ভালো রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিলাতি ধনিয়া পাতার আবাদ নরসিংদীর কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সরকারি সহায়তা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাড়ানো গেলে এটি ভবিষ্যতে রপ্তানি পণ্য হিসেবেও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে।