লাইফস্টাইল ডেস্ক:
মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ আমাদের সবারই কমবেশি আছে। চা, কফি, মিষ্টান্ন কিংবা কোমল পানীয়—সবকিছুতেই চিনি যেন অপরিহার্য। কিন্তু প্রতিদিন চিনি খাওয়ার অভ্যাস শরীরে আস্তে আস্তে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটায়, যা প্রথমে বোঝা না গেলেও দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলে।
চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়া না গেলেও, নিয়মিত গ্রহণ করলে শরীরের ভেতরে কী ঘটে তা জানা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক মাস ধরে প্রতিদিন চিনি খেলে শরীর ও মেজাজে একাধিক পরিবর্তন দেখা দেয়—যার কিছু তাৎক্ষণিক, আবার কিছু দীর্ঘস্থায়ী।
চিনি দ্রুত শক্তি দেয়, কিন্তু তা টেকে না। একে বলে “শর্করার রোলারকোস্টার”। রক্তে হঠাৎ শর্করা বেড়ে গেলে শক্তি বাড়ে, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তা হ্রাস পায়—ফলে ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ বা মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়।
২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চিনি খাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যেই ক্লান্তি এবং ৬০ মিনিটের মধ্যে মনোযোগ কমে যায়।
চিনি খেলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের ‘আনন্দ হরমোন’ নিঃসৃত হয়। এ কারণেই মিষ্টি খেলে ভালো লাগে, কিন্তু সেটিই ধীরে ধীরে নির্ভরতা তৈরি করে।
২০১৬ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন চিনি খেলে মস্তিষ্ক আরও মিষ্টির চাহিদা বাড়ায়। ফলে খাবারের পরে, কাজের ফাঁকে বা মানসিক চাপের সময় বারবার মিষ্টি কিছু খেতে ইচ্ছে হয়।
নিয়মিত চিনি খেলে ত্বকেও প্রভাব পড়ে। ২০২২ সালের গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত চিনি ত্বকের প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে “অ্যাডভান্সড গ্লাইকেশন এন্ড-প্রোডাক্টস (AGEs)” তৈরি করে। এর ফলে ত্বক হারায় স্থিতিস্থাপকতা ও আর্দ্রতা—দেখতে ক্লান্ত, নিস্তেজ ও বয়সের ছাপযুক্ত হয়ে পড়ে।
এছাড়া রক্তে অতিরিক্ত শর্করা ব্রণ বা ত্বকের প্রদাহও বাড়াতে পারে।
অতিরিক্ত চিনি অন্ত্রে গাঁজন সৃষ্টি করে, ফলে গ্যাস ও পেট ফোলাভাব হয়। প্রক্রিয়াজাত চিনিযুক্ত খাবারে ফাইবারের অভাব থাকায় হজম প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে যায়।
এক মাস ধরে প্রতিদিন চিনি খেলে পেটে ভারী ভাব, অস্বস্তি বা অনিয়মিত মলত্যাগ হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ—যারা চিনি খান, তাদের উচিত বেশি পানি পান করা ও দই বা গাঁজানো সবজির মতো প্রোবায়োটিক খাবার খাওয়া।
চিনির দ্রুত শক্তি সরবরাহের পরেই আসে হঠাৎ শক্তিহীনতা—যা ক্ষুধা ও মেজাজ উভয়ের ভারসাম্য নষ্ট করে।
২০১৯ সালের গবেষণায় বলা হয়, চিনির পরিমাণ বেশি হলে মন-মেজাজ অস্থিরতা, উদ্বেগ, এমনকি মনোবলহীনতা দেখা দিতে পারে। অনেকের মধ্যে দেখা যায় “ইমোশনাল ইটিং”—অর্থাৎ মন খারাপ হলে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনে সর্বোচ্চ ২৫–৩০ গ্রাম পর্যন্ত চিনি গ্রহণ করা নিরাপদ।
প্রতিদিন এক কাপ মিষ্টি চা বা সামান্য মিষ্টান্ন শরীরের ক্ষতি করে না, কিন্তু প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত পরিমাণে চিনি খাওয়া রক্তে শর্করা, ওজন, ত্বক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই চিনি পুরোপুরি বাদ নয়, বরং সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই সুস্থ জীবনের মূলমন্ত্র।