বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
হুইলচেয়ার পেয়ে নতুন জীবন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে রূপগঞ্জ: খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা খুঁজছেন সংবাদকর্মী ও সাধারণ মানুষ ২০২৫-এর শেষে দাঁড়িয়ে ২০২৬: আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই নারায়ণগঞ্জে মনোনয়ন জমা শেষ: পাঁচ আসনে ৫৭ প্রার্থী রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন পেছাল, নতুন তারিখ ৩ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার দাফন উপলক্ষে রাজধানীতে কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থা, বন্ধ থাকবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শেখ হাসিনার শোক খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের শোক জামালপুরে ১১০ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ, আটক ১ রূপগঞ্জে বিএনপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়ার মনোনয়নপত্র জমা
ডিম নিয়ে সাতটি ভ্রান্ত ধারণা — জানুন আসল সত্য

ডিম নিয়ে সাতটি ভ্রান্ত ধারণা — জানুন আসল সত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিম কমবেশি সবারই প্রিয়। ভাত, খিচুড়ি, পরোটা কিংবা রুটি—সব খাবারের সঙ্গেই মানিয়ে যায় ডিম। রান্না সহজ, খরচ কম, আর পুষ্টিগুণে ভরপুর—তাই ডিমকে বলা হয় “গরিবের মাংস” কিংবা “পুষ্টির পাওয়ার হাউস”।
প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল ও ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসহ শরীরের প্রয়োজনীয় বহু উপাদান রয়েছে একটি ডিমে। তবুও আমাদের সমাজে ডিম নিয়ে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। কেউ ভাবেন, ডিমে কোলেস্টেরল বেশি, কেউ আবার প্রতিদিন খাওয়া ক্ষতিকর মনে করেন।
আসলে এসব ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। বরং আধুনিক গবেষণা বলছে—ডিম একটি সম্পূর্ণ ও নিরাপদ খাবার, যা শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষের জন্য উপকারী।

চলুন জেনে নিই ডিম নিয়ে প্রচলিত এমন সাতটি ভ্রান্ত ধারণা ও এর বাস্তব সত্য।

ডিমে কোলেস্টেরল বেশি, তাই খাওয়া ক্ষতিকর

এটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ভুল ধারণা। অনেকে মনে করেন, ডিম খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই অনেকেই কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে ডিম খাওয়া বাদ দেন।
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধারণা ভুল। গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমে থাকা কোলেস্টেরল শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) বাড়ায় না, বরং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
একটি মাঝারি ডিমে প্রায় ২১১ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে, যা দৈনিক সীমার মধ্যে। মূলত রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ার জন্য দায়ী ট্রান্স ফ্যাট, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং অতিরিক্ত চিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষ প্রতিদিন একটি ডিম খেতে পারেন কোনো উদ্বেগ ছাড়াই। এমনকি যাদের হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তারাও পরিমিতভাবে ডিম খেতে পারেন, যদি খাদ্যতালিকায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অতিরিক্ত চিনি না থাকে।

বাদামি ডিম সাদা ডিমের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর

বাজারে বাদামি ও সাদা দুই ধরনের ডিম পাওয়া যায়। অনেকেই ভাবেন, বাদামি ডিম বেশি পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক, তাই দামও বেশি। কিন্তু আসলে এই পার্থক্য পুষ্টিগুণে নয়, বরং মুরগির প্রজাতি ও লালনপালন ব্যয়ের কারণে।
বাদামি ডিম পাড়া মুরগিগুলো সাধারণত বড় আকারের হয় এবং বেশি খাবার খায়। ফলে তাদের খরচও তুলনামূলক বেশি, তাই ডিমের দামও কিছুটা বেশি হয়।
গবেষণায় প্রমাণিত, বাদামি ও সাদা—দুই ধরনের ডিমেই প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজের পরিমাণ প্রায় সমান।
অতএব, ডিমের রঙ দেখে নয়, নিজের পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী ডিম বেছে নিলেই যথেষ্ট।

 বাদামি ডিম আসে বাদামি মুরগি থেকে

অনেকে মনে করেন, বাদামি ডিম মানেই সেই মুরগির পালকও বাদামি। কিন্তু এটি সঠিক নয়। ডিমের রঙ নির্ভর করে মুরগির কানপল্লবের (earlobe) রঙের ওপর, পালকের রঙের ওপর নয়।
সাধারণত লাল কানপল্লবযুক্ত মুরগি বাদামি ডিম পাড়ে, আর সাদা কানপল্লবযুক্ত মুরগি সাদা ডিম পাড়ে।
এটি একটি জেনেটিক বৈশিষ্ট্য, যা পুষ্টিগুণে কোনো পরিবর্তন আনে না। তাই ডিমের খোসার রঙ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই—সব ডিমই সমানভাবে পুষ্টিকর।

 গর্ভবতী নারীদের ডিম খাওয়া উচিত নয়

এটিও একটি প্রচলিত কিন্তু ভুল ধারণা। অনেকে মনে করেন, গর্ভাবস্থায় ডিম খেলে শিশুর অ্যালার্জি হতে পারে।
কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর কোনো ভিত্তি নেই। বরং গর্ভবতী নারীদের জন্য ডিম একটি আদর্শ খাদ্য।
ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, ফলেট, লোহা ও জিঙ্ক—যা শিশুর মস্তিষ্ক ও দেহের সঠিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে সতর্কতা হলো—কাঁচা বা আধা সিদ্ধ ডিম খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। এতে সালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
সম্পূর্ণ সিদ্ধ ডিম গর্ভবতী মা ও গর্ভস্থ শিশুর জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর এবং অত্যন্ত উপকারী।

মুরগির ডিম কেবল সাদা বা বাদামি হয়

অনেকে ভাবেন, মুরগির ডিম মানেই শুধু সাদা বা বাদামি। কিন্তু বাস্তবে মুরগির জাতভেদে ডিমের রঙ নীল, সবুজ, এমনকি হালকা গোলাপিও হতে পারে।
যেমন—আরকনা জাতের মুরগি নীল বা সবুজ ডিম পাড়ে। ডিমের রঙ নির্ধারণ করে এক ধরনের প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ, যার নাম প্রোটোপর্ফিরিন।
এই পদার্থের ঘনত্ব ও প্রকৃতি অনুসারে ডিমের খোসার রঙে পরিবর্তন আসে।
তবে রঙের পার্থক্য পুষ্টির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। অর্থাৎ নীল, সবুজ বা বাদামি—সব ডিমের পুষ্টিমান সমান।

প্রতিদিন ডিম খাওয়া ক্ষতিকর

অনেকে ভাবেন, প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে চর্বি জমে বা ওজন বাড়ে। কিন্তু এ ধারণা ভুল।
আধুনিক গবেষণায় প্রমাণিত, প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী।
ডিমে রয়েছে ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ, ডি, ই, কে, বি৬ ও বি১২, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সেলেনিয়াম, ফসফরাসসহ অসংখ্য পুষ্টি উপাদান, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে।
ডিমে থাকা প্রোটিন সহজপাচ্য এবং দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি দেয়, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
সুতরাং সুষম খাদ্যাভ্যাসে প্রতিদিন একটি সিদ্ধ বা পোচ ডিম রাখা স্বাস্থ্যরক্ষায় উপকারী।

কাঁচা ডিমে পুষ্টি বেশি

সিনেমা বা ফিটনেস ভিডিওতে দেখা যায়, কেউ কেউ দুধের সঙ্গে কাঁচা ডিম গিলে খাচ্ছে। ধারণা হলো—কাঁচা ডিমে প্রোটিন বেশি থাকে। কিন্তু এটি একটি বিপজ্জনক ভুল ধারণা।
বাস্তবে কাঁচা ডিম শরীরে ভালোভাবে হজম হয় না। বরং কাঁচা ডিমে থাকা একটি এনজাইম বায়োটিন (ভিটামিন বি৭)-এর শোষণ বাধাগ্রস্ত করে, যা ত্বক, চুল ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো—কাঁচা ডিমে সালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা গুরুতর খাদ্যবিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।
অন্যদিকে রান্না বা সিদ্ধ ডিম শুধু নিরাপদই নয়, বরং এর পুষ্টি উপাদান শরীরে সহজে শোষিত হয়।
তাই কাঁচা নয়, সিদ্ধ ডিমই হওয়া উচিত বুদ্ধিমানের পছন্দ।

 ডিমের পুষ্টিগুণ এক নজরে

একটি মাঝারি ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে

এতে রয়েছে ৭৭ ক্যালোরি, ৫ গ্রাম স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট

ভিটামিন এ, ডি, ই, কে, বি১২, ফলেট, আয়রন ও সেলেনিয়ামে সমৃদ্ধ

ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের বিকাশ ও হৃদরোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে

চোখের দৃষ্টি উন্নত করে, কারণ এতে রয়েছে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন

ডিম আমাদের খাদ্যতালিকায় একটি পূর্ণাঙ্গ ও সাশ্রয়ী পুষ্টির উৎস। এতে রয়েছে এমন সব উপাদান যা শরীরের বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
তাই ডিম নিয়ে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা ভুলে যান। সঠিকভাবে রান্না করা ডিম প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন।
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা একবাক্যে বলেন—একটি ডিম প্রতিদিন, সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা।





স্বত্ব © ২০২৫ নিউজ ৩৬ এইসডি ।
Design & Developed BY POPCORN IT