নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালত চত্বরে এক মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় বিএনপি নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন।
মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
বাদী রাজিয়া সুলতানার লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, সাখাওয়াতের নির্দেশে আদালত চত্বরে তার স্বামী ও পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়।
সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী।
হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখমের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাখাওয়াতের ঘনিষ্ঠ অনুসারী তিন আইনজীবী—অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম, মো. আল আমিন ও বিল্লাল হোসেন, তার সহকারী (মুহুরি) হিরণ বাদশা ছাড়াও ইসমাইল, শাহ আলম, টিটু ও রাসেল বেপারীকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া, হামলায় অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
গত রোববার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের সামনে শহরের কালিরবাজার এলাকার স্যানেটারি ব্যবসায়ী ইরফান মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা হামলার শিকার হন। এতে ইরফান, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান আহত হন।
মারধরের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর বাদী রাজিয়া সুলতানা ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও বিএনপি নেতা সাখাওয়াতের নাম থাকায় পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজিয়ার বড় ছেলে, পেশাদার বক্সার মোহাম্মদ জিদান অভিযোগ করেন, সাখাওয়াতের অনুসারীরা তাদেরকে মামলা না করতে চাপ ও হুমকি দিচ্ছিলেন।
সোমবার রাত পর্যন্ত মামলা না নেওয়ায় রাজিয়া সন্তানদের নিয়ে থানায় অবস্থান নেন। তার অবস্থানের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।এরপর মঙ্গলবার রাতে পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য হয়।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন,আদালত চত্বরে ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ভিডিও যাচাই-বাছাই ও প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান তিনি।
বাদী রাজিয়া সুলতানা এজাহারে উল্লেখ করেন, তার স্বামী ইরফান মিয়া ব্যবসায়িক লেনদেনে অভিযুক্ত ইসমাইলের কাছে ২৫ লাখ টাকা পাওনা। এক বছরেও টাকা না দেওয়ার পাশাপাশি ইসমাইল উল্টো তাদের হুমকি দিতে থাকে। এ ঘটনায় কয়েক মাস আগে তারা আদালতে মামলা করেন।
ওই মামলায় ইসমাইলের পক্ষে বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন খান আইনজীবী হিসেবে লড়ছেন বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার।
রোববার আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বাদীপক্ষকে লক্ষ্য করে সাখাওয়াতের অনুসারীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগে বলা হয়।
এ ব্যাপারে অভিযোগ অস্বীকার করে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন,আমি ঘটনার সময় কোর্টে ছিলাম না। পরে গিয়ে ঘটনার কথা শুনেছি ও ভিডিও দেখেছি। ভিডিওতেও আমাকে দেখা যায় না। আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।
তিনি আরও বলেন,নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমাকে বিতর্কিত করতে এই ঘটনার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট মো. আল আমিন বলেন,
কয়েকজন ব্যক্তি মুহুরি হিরণ ভাইকে মারধর করছিল। আমি গিয়ে থামানোর চেষ্টা করি, পরে তারাই আমার ওপর চড়াও হয়।
এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে আদালত চত্বরে সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে আইনজীবীরা মানববন্ধনও করেছেন।
রোববারের ঘটনায় ফতুল্লা থানায় আরও একটি অভিযোগ দিয়েছেন এসএম আশরাফুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি। তিনি বিবাদী ইসমাইলের ভাই। তার দাবি, ইরফান ও তার পরিবারই আদালত চত্বরে তাদের ওপর হামলা চালায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন,এই অভিযোগটি যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।