নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার খাদুন এলাকায় একটি ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। গভীর রাতে গোপনে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি ফেলার কারণে মাছ মারা যাচ্ছে, ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে এবং তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, রনি নিট অ্যান্ড কম্পোজিট নামে একটি ডাইং কারখানা দিনের বেলায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চালালেও রাতের আঁধারে পাশের এলাকায় বর্জ্য পানি ছেড়ে দেয়। এসব বর্জ্য গিয়ে পড়ছে পার্শ্ববর্তী কারখানার মাছের খামার, পুকুর এবং আশপাশের জমিতে। ভোর হলে দৃশ্যপট বদলে যায়—পুকুরে ভেসে ওঠে মরা মাছ, পানির রং হয়ে যায় কালচে-লালচে, আর চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র পচা গন্ধ। স্থানীয়দের ভাষায়, রাতে বিষ ঢালা হয়, সকালে তার ভয়াবহতা চোখে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কারখানার পাশ দিয়ে প্রবাহিত ডোবার পানি স্বাভাবিক নেই। পানির ওপর ভাসছে ফেনা, রং অস্বাভাবিক এবং আশপাশে অসহনীয় দুর্গন্ধ বিরাজ করছে। এতে শুধু মাছের খামার নয়, আশপাশের ফসলি জমিও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, জমিতে আগের মতো ফলন হচ্ছে না, মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে কারখানার বর্জ্য পাশের একটি খালে ফেলা হতো। তবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৮ লেনে উন্নীতকরণের সময় সেই খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার পর থেকেই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। এখন কারখানা কর্তৃপক্ষ রাতের বেলায় পাশের জমি ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলে দায় এড়াচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান এবি সোয়েটার কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্জ্য পানির কারণে তাদের খামারের প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে। শুধু তাই নয়, কারখানার ভেতরে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় টানা ৭ দিন উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় তারা। এতে প্রায় ১০ হাজার ডলারের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কারখানার শ্রমিকরা বলেন, পচা পানির দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। পানি ঢুকে কারখানা বন্ধ থাকায় ঈদের আগে তারা বকেয়া বেতনও পাননি।
এবি সোয়েটার কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা হুমাউনুর রহমান বলেন, ডাইং কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য আমাদের পুকুরে এসে মাছ মেরে ফেলছে। পাশাপাশি ফসলি জমিও নষ্ট হচ্ছে। কারখানার ভেতরে পানি ঢুকে ৭ দিন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
এছাড়া স্থানীয়রা জানান, এই বর্জ্য পানি রূপসী, দক্ষিণ রূপসী ও খাদুনসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং খোসপাঁচড়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
অভিযুক্ত রনি নিট অ্যান্ড কম্পোজিট কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে গেলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তারাবো পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, এবি সোয়েটার কারখানার পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।