নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নারায়ণগঞ্জ শহরের কংক্রিট আর কোলাহলের ভিড়ে দাঁড়িয়ে এক টুকরো স্বস্তির নিশ্বাস—নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্ক। চারপাশে যানজট, কারখানার শব্দ আর ব্যস্ত মানুষের ছুটে চলা জীবনকে পেছনে ফেলে এই পার্কে পা রাখলেই মনে হয়, শহরের ভেতরেই যেন অন্য এক জগৎ। সবুজের মায়াজালে মোড়া এই পার্কটি এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে বিশ্রাম, বিনোদন আর প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়।
সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই পার্কের প্রাণচাঞ্চল্য শুরু হয়। কুয়াশা ভেজা ঘাসের ওপর হাঁটতে বের হন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ, দৌড়ঝাঁপ করেন তরুণরা। কেউ ব্যস্ত শরীরচর্চায়, কেউ আবার নীরবে হাঁটছেন গাছের ছায়ায়। পাখির ডাক আর পাতার ফাঁক দিয়ে আসা রোদের ঝিলিক যেন দিনের শুরুটা করে দেয় আরও স্নিগ্ধ।
দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পার্কে আসে অন্য রূপ। শিশুদের কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে খেলার মাঠ। দোলনা, স্লাইড আর দৌড়ঝাঁপে ভরে ওঠে তাদের ছোট্ট পৃথিবী। অভিভাবকেরা বসে থাকেন বেঞ্চে—কেউ গল্পে মগ্ন, কেউ মোবাইলের ফাঁকে ফাঁকে সন্তানের দিকে নজর রাখছেন। সবুজ ঘাসে বসে অনেককে দেখা যায় বই পড়তে, কেউ কেউ আড্ডায় মেতে ওঠেন বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে।
বিকেলের দিকে সিটি পার্ক যেন আরও রঙিন হয়ে ওঠে। অফিস শেষে মানুষ আসেন ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে। প্রেমিক-প্রেমিকারাও এখানে খুঁজে পান একটু নিরিবিলি সময়। আলো-ছায়ার খেলায়, হালকা বাতাসে আর সবুজের ঘ্রাণে ধীরে ধীরে নেমে আসে প্রশান্তি।
পার্কের ভেতরের গাছপালা, পরিচ্ছন্ন হাঁটার পথ আর খোলা জায়গাগুলো নারায়ণগঞ্জ শহরের পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শহরের উষ্ণতা কমাতে, বাতাসকে তুলনামূলকভাবে বিশুদ্ধ রাখতে এই সবুজ পরিসর যেন এক নীরব প্রহরীর মতো কাজ করছে।
সন্ধ্যা নামলে পার্কের আলো জ্বলে ওঠে। আলোর ঝিলিকে সবুজ আরও মোহময় হয়ে ওঠে। পরিবার নিয়ে অনেকেই সন্ধ্যার হাওয়া খেতে আসেন। কেউ বসে থাকেন নিরবে, কেউ হাঁটেন হাত ধরাধরি করে। শহরের ব্যস্ততা তখন অনেকটাই দূরে।
গোলাম রাব্বানি শিমুল বলেন,
নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্ক শুধু একটি বিনোদনকেন্দ্র নয়—এটি শহরবাসীর মানসিক স্বস্তির জায়গা, সামাজিক মেলবন্ধনের ক্ষেত্র এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার এক গুরুত্বপূর্ণ পরিসর। সবুজ মায়াজালে মোড়া এই পার্ক তাই নারায়ণগঞ্জ শহরের বুকের ভেতর এক নিঃশব্দ প্রাণভোমরা।