নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে রাজনীতির মাঠে এখন স্পষ্ট উত্তাপ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসবমুখর তৎপরতা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্দীপনা ও প্রত্যাশা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জের ৩০০ ফিট সড়কে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেড় লাখ মানুষের জনসমাগম ঘটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আয়োজনকে সফল করতে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর নেতৃত্বে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সংগঠিতভাবে কাজ চলছে।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘোষণার পর থেকেই দিপু ভূঁইয়া দফায় দফায় রূপগঞ্জ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সভা করছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে ওয়ার্ডভিত্তিক খিচুড়ি ভোজ, মতবিনিময় সভা ও জনসংযোগ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এসব সভায় কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন, লোকসমাগম নিশ্চিত করার কৌশল এবং অনুষ্ঠানস্থলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। তারেক রহমান ও দিপু ভূঁইয়ার ছবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে ছেয়ে গেছে সড়ক ও অলিগলি। ৩০০ ফিট সড়কের রূপগঞ্জ অংশকে কেন্দ্র করে চলছে বিশেষ আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার কাজ। ঢাক-ঢোল ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করা হচ্ছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আগত জনসাধারণের সুবিধার্থে ব্যক্তিগত অর্থায়নে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। দলীয় সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানে থাকবে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প, চারটি ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ। পাশাপাশি শরবত, বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীদের জন্য অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সভাস্থলের আশপাশে স্থাপন করা হচ্ছে অন্তত ১৫০টি মোবাইল টয়লেট।
উপজেলা যুবদল নেতা আবু মোহাম্মদ মাসুম বলেন, “দিপু ভাই আমাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। রূপগঞ্জ থেকে যেন মানুষের ঢল নামে, সে লক্ষ্যে আমরা মাঠে কাজ করছি।”
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম প্রিন্স জানান, “প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ পেয়েছি। নেতাকর্মীরা সেই দায়িত্ব পালন করছেন।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন ও সাধারণ সম্পাদক বাশিরউদ্দিন বাচ্চু বলেন, “তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে এলাকায় এলাকায় মাইকিং, প্রস্তুতিমূলক সভা ও আলোচনা চলছে। শুধু দলীয় কর্মী নয়, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও উচ্ছ্বসিত। পুরো রূপগঞ্জে একটি গণজোয়ারের আবহ তৈরি হয়েছে।”
এ বিষয়ে মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, “তারেক রহমানের আগমন কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। দীর্ঘ সময় পর তিনি দেশে ফিরছেন—এটি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।”
তিনি আরও বলেন, “রূপগঞ্জের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ৩০০ ফিট সড়কে এই আয়োজন আমাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এখান থেকেই দেড় লাখ মানুষ তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন।”
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে রূপগঞ্জে যে প্রস্তুতি ও আবেগ তৈরি হয়েছে, তা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আয়োজন বিএনপির শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।