নিজস্ব প্রতিবেদক,
শীতের ভোরে শিশির ভেজা ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটা গ্রামীণ জীবনের এক চিরচেনা চিত্র হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিকল্প স্বাস্থ্যচর্চায় এর রয়েছে বিশেষ উপকার। রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এখনো বহু মানুষ সকালবেলা মাঠের পাশে বা বাড়ির আঙিনায় খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস বজায় রেখেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘাসের ওপর জমে থাকা ঠান্ডা শিশির পায়ের স্নায়ুতে বিশেষ এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি করে, যা শরীরের বিভিন্ন জৈবক্রিয়া সক্রিয় করতে সহায়তা করে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, যারা প্রতিদিন ভোরে কয়েক মিনিট খালি পায়ে শিশিরভেজা ঘাসে হাঁটেন, তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সতেজ অনুভব করেন।
কি কি উপকার পাওয়া যায়?
রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি
ঠান্ডা শিশির ও মাটির স্পর্শ পায়ের রক্তনালীকে সাময়িকভাবে সংকুচিত করে, হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে আবার প্রসারিত হয়। এতে রক্তসঞ্চালন সক্রিয় হয়।
চোখের স্নায়ু সুস্থ রাখে
প্রাকৃতিক চিকিৎসাশাস্ত্রে বলা হয়, পায়ের তলায় চোখের স্নায়ুর সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু প্রেসার-পয়েন্ট থাকে। ভেজা ঘাসে হাঁটলে এই পয়েন্টগুলোতে স্বাভাবিক চাপ পড়ে, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
চাপ ও মানসিক ক্লান্তি কমায়
পায়ের নিচে ঠান্ডা ঘাসের স্পর্শ মনকে দ্রুত প্রশান্ত করে। রূপগঞ্জে বেশ কয়েকজন নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা প্রবীণ বলেন, এতে মন ভালো থাকে এবং স্ট্রেস কমে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা
খালি পায়ে ঘাসে হাঁটা শরীরের ‘গ্রাউন্ডিং’ প্রক্রিয়া সক্রিয় করে। মাটির স্বাভাবিক বিদ্যুৎধারা শরীরের অতিরিক্ত স্ট্যাটিক চার্জ কমাতে সাহায্য করে বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে।
পায়ের পেশি ও স্নায়ু শক্তিশালী হয়
জুতা ছাড়াই হাঁটার ফলে পায়ের পেশিগুলো স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হয়, ফলে পায়ের গঠন ও স্নায়ু আরও শক্তিশালী হয়।
রূপগঞ্জে জনপ্রিয়তা বাড়ছে
ভুলতা, তারাবো, কাঞ্চন, মুড়াপাড়া—রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভোরের শিশিরে হাঁটার প্রবণতা বিশেষ করে প্রবীণদের মধ্যে বাড়ছে। স্থানীয়রা জানান, আধুনিক জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই এখন প্রকৃতির সান্নিধ্যে ফিরছেন।
স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, প্রতিদিন মাত্র ১০–১৫ মিনিট ভোরে শিশিরভেজা ঘাসে হাঁটলে শরীর-মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে যাদের পায়ে ছত্রাক বা ত্বকের সংক্রমণ আছে, তাদের সতর্কতার সঙ্গে এই অভ্যাস করতে হবে।