নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, এই তালিকা প্রকাশের পরই কমিশন আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবে এবং প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সময়মতো সম্পন্ন হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।
ইসি সচিব জানান, ব্যালট বাক্স, লক, গালা, সিল, কালি ও অমোচনীয় কালিসহ প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। এসব সরঞ্জাম শেষ মুহূর্তের চাপ এড়াতে ১০টি জোনাল অফিসের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রিন্টিং প্রেসেও পর্যাপ্ত কাগজ মজুত আছে। এবার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের জন্য আলাদা রঙিন ব্যালট পেপার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ভোটারদের সুবিধা বাড়াবে।
আখতার আহমেদ আরও জানান, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মী ও আইনগত হেফাজতে থাকা ভোটাররা ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। বিদেশে পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে এবং ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক সাড়া মিলেছে। আটটি জোনে ভাগ করে নিবন্ধন নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে উত্তর আমেরিকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি রয়েছে।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে ইসি সচিব বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। এখন পর্যায়ক্রমে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, দেশের ইতিহাসে এবার দুটি বিশেষ ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে—একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রথমবার প্রবাসীরা পোস্টাল ভোটের সুযোগ পাবেন। এটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সবার সহযোগিতায় সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুই ভোট একসঙ্গে আয়োজনের কারণে প্রয়োজন হলে ২৯ নভেম্বর মক রিহার্সাল করা হবে বলে জানান ইসি সচিব। অন্যদিকে গণভোট নিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই ব্যাপক প্রচারণা শুরু করবে বলে জানান ড. আসিফ নজরুল।