বিশেষ প্রতিবেদন │ নিউজ ডেস্ক
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জনপদ এখনো গতকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলাতে ব্যস্ত। এর মধ্যেই মাত্র ২৪ ঘণ্টা না যেতেই আবারও কেঁপে উঠল গাজীপুরের বাইপাইল এলাকা। আজ শনিবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় এলাকায়। নতুন এই কম্পন রাজধানীঘেঁষা পুরো বেল্টে জনমনে আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, “সাভারের বাইপাইলে সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে ৩.৩ মাত্রার কম্পন রেকর্ড হয়েছে।” ভূমিকম্পটির অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে উত্তর অক্ষাংশ ২৩.৭৭° এবং পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ৯০.৫১°–এ।
গতকাল শুক্রবার সকালেই ৬ দফা দুলুনিতে কেঁপে ওঠে রাজধানীঢাকা, আশপাশের জেলা—নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের প্রায় সব অঞ্চল। আতঙ্কে ভবন থেকে দৌড়ে নামতে গিয়ে শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ছয় শতাধিক মানুষ। নরসিংদীতে পাঁচজন, ঢাকায় চারজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়।
কেউ ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন, কেউবা ভিড়ের চাপে চাপা পড়ে মারা গেছেন। বহু ভবনে ফাটল দেখা দেয়; কিছু ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
গতকালের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। ভূতাত্ত্বিকদের ধারণা, রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নিকটবর্তী ফল্ট লাইনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ সঞ্চিত হচ্ছিল। স্বল্প ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প হওয়া সেই চাপমোচনের সংকেত হতে পারে।
বাইপাইলের আজকের কম্পন খুব বেশি শক্তিশালী না হলেও এর মানসিক ধাক্কা ভয়াবহ। গতকাল দুলুনির আতঙ্কে হাজারো মানুষ রাত কাটিয়েছেন হয় খোলা জায়গায়, নয়তো বাড়ির বাইরে। কেউ কেউ ভবনে ফিরতে সাহস পাননি।
স্থানীয়রা বলেন, “কাল এত বড় ভূমিকম্প হলো, আজ আবার—এভাবে চলতে থাকলে কী হবে?”
জরুরি বিভাগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর বলছে, দেশের সব জেলার প্রশাসনকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কোনো পূর্বাভাস দেওয়া না গেলেও ভূমিকম্পপ্রবণ বাংলাদেশে সচেতনতা ও প্রস্তুতির বিকল্প নেই।
ভবনে নতুন ফাটল দেখা দিলে তাৎক্ষণিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।অযথা গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ করেছে প্রশাসন।প্রয়োজন হলে খোলা স্থানে অবস্থান ও নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরপর দুই দিনে দুই ভূমিকম্প—এমন পরিস্থিতিতে রাজধানী ও আশপাশের মানুষের উদ্বেগ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে এখনই ভবন নিরাপত্তা, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সচেতনতায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।