নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আওয়ামী লীগ এখন বাংলাদেশে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ আজ নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা খুঁজছে। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিবি রোডে সমবায় সমিতি ভবনের নবম তলায় এনসিপির জেলা কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আমাদের ভাবতে হবে কেন আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়েছে। আমরা দেখেছি, যারা অতীতে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন, কিছু পেইড বুদ্ধিজীবী, তারা টকশোতে আওয়ামী লীগের পক্ষে বৈধতা উৎপাদন করেছেন। কিন্তু গত দুইদিনের ঘটনাপ্রবাহই প্রমাণ করেছে—আওয়ামী লীগ কখনোই গণমানুষের দল ছিল না। অতীত ও বর্তমানের আগুন সন্ত্রাস কারা করেছে, তা এখন পরিষ্কার।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের পতন ব্যালটের মাধ্যমে হয়নি যে, ব্যালটের মাধ্যমেই আবার ফিরিয়ে আনা যাবে। তাদের পতন ঘটেছে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। আর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক দলের পতন ঘটে, সেই দলের উপযোগিতা শেষ হয়ে যায় বলেই জনতা বিদ্রোহে নামে।”
এনসিপির এই নেতা বলেন, “যারা এখন ব্যালটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার বৈধতা তৈরি করতে চাইছে, তারা মূলত আগুন সন্ত্রাসের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। সেজন্য ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি।”
সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্যের প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “যারা সংস্কারের পক্ষে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে—তাদের সঙ্গে আমরা জোট করতে পারি। কিন্তু যারা সংস্কারের বিরোধী, যারা জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে, তাদের সঙ্গে এনসিপির কোনো জোট সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের স্বার্থে আমরা সবসময় ছাড় দিয়ে এসেছি। জাতীয় ঐকমত্য ও সংস্কারের প্রশ্নে আমরা ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখব।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা নভেম্বরের প্রথম তিন সপ্তাহের মধ্যেই ঘোষণা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান আবদুল্লাহ আল আমিন, কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী, কেন্দ্রীয় সদস্য আহমেদুর রহমান তনু এবং জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি তুহিন খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।