নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এবং মালদ্বীপের ধিভেহি ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবিষয়ক মন্ত্রী আদম নাসির ইব্রাহিমের মধ্যে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও একাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ দুই দেশের শতাব্দীব্যাপী ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী আদম নাসির ইব্রাহিম বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলা ও ধিভেহি ভাষার মধ্যে বহু শব্দ ও উচ্চারণে মিল পাওয়া যায়, যা দুই দেশের ঐতিহাসিক যোগাযোগের প্রতিফলন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলার ‘বটগাছ’ ধিভেহিতে ‘বোদগাছ’ এবং সংখ্যা ‘৬২’ বাংলায় ‘বাষট্টি’ হলেও ধিভেহিতে তা ‘বাহোত্তি’। “এই ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য আমাদের জনগণের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে। আমরা এই ঐতিহ্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই,”—যোগ করেন মন্ত্রী।
বৈঠকে তিনি কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে— সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন, প্রত্নতত্ত্ব ও নৃবিজ্ঞান বিষয়ে বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ, স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, একাডেমিক বিনিময়, উপকূলীয় ঐতিহ্য ও সামুদ্রিক প্রত্নতত্ত্বে যৌথ গবেষণা এবং ধিভেহি ভাষার বই বাংলায় অনুবাদ।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম এসব প্রস্তাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধনই কূটনৈতিক সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি। আমরা সেই বন্ধনকে ‘পাওয়ার অব বন্ডিং’-এর মাধ্যমে কাজে লাগাতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, মালদ্বীপে যেসব সাহিত্য ও গবেষণায় বাংলাদেশের উল্লেখ রয়েছে, সেগুলো বাংলায় অনুবাদ করা হলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হবে।
বৈঠক শেষে উভয়পক্ষ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সম্মত হয়।
এ সময় হাইকমিশনার নাজমুল ইসলাম মন্ত্রী আদম নাসির ইব্রাহিমকে তার লেখা ‘Power of Bonding’ শীর্ষক বই উপহার দেন। বইটিতে সাংস্কৃতিক কূটনীতি, জনকূটনীতি ও সফট পাওয়ারের ধারণাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। জানা গেছে, বইটি ইতোমধ্যে হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজসহ বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত রয়েছে।