মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বোয়ালমারীতে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ: তিন আসামির যাবজ্জীবন শতভাগ জিপিএ-৫ নিয়ে অভিযোগ, নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলকে শোকজ রূপগঞ্জে জরিমানার পরও বন্ধ হচ্ছে না বিক্রমপুর স্টিলের কালো ধোঁয়া জুলাই গণআন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে চট্টগ্রামে ৮ শহীদ পরিবারের পাশে এ্যাব নরসিংদীর নাছিমা কাদের মোল্লা হাই স্কুলে শতভাগ জিপিএ-৫, সাফল্যের নেপথ্যে কঠোর নিয়ম! থাইল্যান্ডে শুটিং শেষে পাহাড় থেকে নামার পথে দুর্ঘটনা, আহত খায়রুল বাসার আটকে গেল ৭ লাখ শিক্ষার্থী- এসএসসি ফলাফলে শহর-গ্রামের বৈষম্য সালমান শাহ হত্যা: ৩০ বছর পরও ১০ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি রূপগঞ্জে এসএসসির ফলাফলে পাসের হার ৭৭.৭৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪৫
বোয়ালমারীতে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ: তিন আসামির যাবজ্জীবন

বোয়ালমারীতে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ: তিন আসামির যাবজ্জীবন

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কড়া পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী গ্রামের নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লঙ্কারচর এলাকার সৈকত চন্দ্র মন্ডল (২৬) এবং একই এলাকার নাসির মোল্যা (৩৬)।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী স্থানীয় গোহাইলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রথম আসামি নাসির মোল্যার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে নাসির দেখা করার জন্য ছাত্রীর বাড়ির কাছাকাছি জীবন মন্ডলের বাগানের কাছে আসে। তার ডাকে সেখানে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আসামিরা ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়।
পরে তাকে মধুমতি নদীর তীরে একটি নৌকায় তুলে চরে নিয়ে যায় আসামিরা। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলা হয় বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
নির্যাতনের একপর্যায়ে ছাত্রীটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে তাকে নৌকায় করে নদীর পাড়ে এনে বাড়ির কাছে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায় সে।
পরদিন ২৯ জানুয়ারি বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। অর্থদণ্ডের অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, এ রায়ে তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করবে।





স্বত্ব © ২০২৫ নিউজ ৩৬ এইসডি ।
Design & Developed BY POPCORN IT