স্টাফ রিপোর্টার:
স্বাস্থ্য সচেতনতার এই সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘ডিটক্স ওয়াটার’। শুধু নারীদের মধ্যেই নয়, এখন সব বয়সী মানুষের কাছেই এটি একটি পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত পানীয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক নিয়মে তৈরি ও পরিমিত পরিমাণে পান করলে ডিটক্স ওয়াটার শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
ব্যস্ত জীবনযাপনে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করতে পারেন না। ফলে শরীরে পানিশূন্যতা ও ক্লান্তিভাব দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন ডিটক্স ওয়াটার, যা পানির পাশাপাশি শরীরে কিছু পুষ্টিগুণও যোগ করে।
ডিটক্স ওয়াটার কী
ডিটক্স ওয়াটার হলো ফল, সবজি বা ভেষজ উপাদান পানিতে ভিজিয়ে তৈরি এক ধরনের পানীয়। সাধারণত কাচের বোতল বা জারে বিভিন্ন উপাদান স্লাইস করে পানিতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা হয়। এরপর সেগুলো ছেঁকে সারাদিন অল্প অল্প করে পান করা যায়।
জনপ্রিয় কিছু রেসিপি
পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন উপাদান দিয়ে ডিটক্স ওয়াটার তৈরি করা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
আপেল ও দারুচিনি, শসা-তরমুজ-সবুজ আপেল, লেবু-আদা-পুদিনা, লেবু-অ্যাপল সিডার ভিনেগার-মধু এবং মাল্টা-জাম্বুরা-লেবু-পুদিনা সমৃদ্ধ ভিটামিন সি ডিটক্স ওয়াটার।
উপকারিতা কী
পুষ্টিবিদদের মতে, ডিটক্স ওয়াটার শরীরের টক্সিন বের করতে সহায়তা করে, হজমশক্তি উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। এতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও সহায়ক।
সতর্কতা জরুরি
তবে অতিরিক্ত ডিটক্স ওয়াটার পান ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, অতিরিক্ত পান করলে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গিয়ে দুর্বলতা, মাথাব্যথা বা বমিভাব দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
কিডনি রোগী বা ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এ ধরনের পানীয় গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কখন পান করবেন
খালি পেটে ডিটক্স ওয়াটার পান না করাই ভালো। এতে অ্যাসিডিটি বা পেটের সমস্যা হতে পারে। সকালে নাশতার পর বা বিকেলে নাশতার পর পান করাই সবচেয়ে উপযোগী বলে মত দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
ডিটক্স ওয়াটার কোনো অলৌকিক সমাধান নয়। সুস্থ থাকতে হলে সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত পানি পানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ডিটক্স ওয়াটার হতে পারে স্বাস্থ্যকর জীবনের একটি সহায়ক উপাদান।