নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ে একগুচ্ছ কঠোর ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ধরনের দোকানপাট, বাণিজ্যিক বিতান ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ রাখতে হবে। তবে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান এবং খাবারের দোকানের মতো জরুরি সেবাগুলো এই বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কঠোর নজরদারি করবে এবং নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
শিক্ষা খাতেও আসছে পরিবর্তন। স্কুল খোলা থাকলেও সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে, যাতে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন না ঘটে। এ বিষয়ে আগামী রোববার থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করবে।
যানজট কমানো ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে ‘ইলেকট্রিক বাস’ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক খাতে নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পুরোনো বাস আমদানির সুযোগ রাখা হয়নি।
সরকারি ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে আগামী তিন মাসের জন্য বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নতুন কোনো সরকারি যানবাহন (সড়ক, নৌ বা আকাশপথে) এবং কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয় না করা। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত করা হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এছাড়া জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে বাজেট ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন খরচও অর্ধেকে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সামাজিক আয়োজনেও জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিয়ে বা অন্য কোনো উৎসব-অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা না করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের এই পদক্ষেপগুলো জরুরি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।#২#