রিপোর্ট: বিনোদন প্রতিবেদক
নব্বই দশকের পর্দা কাঁপানো নায়ক সালমান শাহ—তার মৃত্যুর রহস্য নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন ঘুরে বেড়ায় চলচ্চিত্র অঙ্গনে। সেই সময়ের আরেক জনপ্রিয় মুখ, নায়ক শাকিল খান সম্প্রতি মুখ খুলেছেন এই প্রসঙ্গে। তার ভাষায়—“সালমান শাহকে শেষ করে দেওয়ার পেছনে সিনেমার মানুষেরাই দায়ী।
শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিআরএ) অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করেন শাকিল খান। সম্মাননা হাতে নিয়ে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অকপটে বললেন ঢালিউডের অতীত ও বর্তমানের গল্প।
সিনেমা থেকে দূরে, তবু ‘ফিল্মম্যান’দীর্ঘদিন সিনেমার পর্দায় না থাকলেও শাকিল খান মনে করেন, আমি আজও ফিল্মম্যান। সিনেমার কারণেই মানুষ আজও আমাকে মনে রেখেছে। আমি সিনেমা করব না—এমন কথা কখনো বলিনি। তবে সেটা হতে হবে সুস্থ ধারার সিনেমা। এখন ভালো সিনেমা হচ্ছে, কিন্তু আগের মতো প্রযোজকের দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ আর দেখা যায় না।
সালমান শাহ প্রসঙ্গে খোলামেলা মন্তব্য
সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শাকিল খান বলেন, সালমান ভাইয়ের প্রতি তখনকার অনেকেই হিংসা পোষণ করত। তিনি ছিলেন অন্যরকম এক তারকা—যিনি মানুষকে সিনেমা হলে টেনে আনতেন। কিন্তু এই ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের কিছু মানুষই তার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজও ভাবলে কষ্ট লাগে।
‘সুপারস্টার’ না হয়েও দর্শকের মনে স্থান
নব্বইয়ের দশকে একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন শাকিল খান। তার অভিনীত ‘এই মন তোমাকে দিলাম’ (১৯৯৬) একসঙ্গে মুক্তি পাওয়া ১১টি সিনেমার ভিড়ে ব্যবসাসফল হয়েছিল। তবুও ‘সুপারস্টার’ তকমা পাননি তিনি।
“আমরা তখন হিট সিনেমা করেও সুপারস্টার হতে পারিনি,” বললেন শাকিল খান। “এখন একটি সিনেমা মুক্তি পেলেই কেউ না কেউ ‘সুপারস্টার’ হয়ে যাচ্ছেন। এটা দর্শক নয়, অনেক সময় মিডিয়াই বানিয়ে দিচ্ছে। তবে দর্শকের ভালোবাসাই আসল অর্জন, সেটা আমি পেয়েছি।
পুরনো ঢালিউডের প্রতি ভালোবাসা
অভিনয়ের বাইরে থেকেও তিনি নিয়মিত খোঁজ রাখেন সিনেমার। “এখনকার তরুণরা পরিশ্রম করছে, ভালো সিনেমাও হচ্ছে। কিন্তু সেই আগের দিনের সেটের আবেগ, পরিচালক-অভিনেতার সম্পর্ক, প্রযোজকের নিবেদন—এসব হারিয়ে গেছে। সিনেমা এখন ব্যবসা, তখন ছিল ভালোবাসা।”
শেষে তিনি বলেন, সালমান শাহর সময়টা ছিল সিনেমার সোনালি যুগ। আমি সেই সময়ের অংশ হতে পেরে গর্বিত। আজকের প্রজন্ম যদি সেই ইতিহাস জানত, হয়তো তারা সিনেমাকে আরও শ্রদ্ধা করত।