ডেস্ক রিপোর্ট:
স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে প্রাকৃতিক ডিটক্স পানীয়। এই তালিকায় নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে ঢেঁড়সের পানি। সহজলভ্য এই সবজিটি শুধু রান্নায় নয়, পানীয় হিসেবেও শরীরের নানা উপকারে আসছে বলে দাবি করছেন পুষ্টিবিদরা।
ঘরোয়া এই পদ্ধতিতে রাতে কাঁচা ঢেঁড়স দুই টুকরা করে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি ছেঁকে পান করা হয়। নিয়মিত এক মাস পান করলে শরীরে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
হজমে সহায়ক ও অন্ত্রের যত্নে কার্যকর
ঢেঁড়সের পানিতে রয়েছে উচ্চমাত্রার দ্রবণীয় ফাইবার, যা হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে, ফলে অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটে। এতে বদহজম, গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাও কমতে পারে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সম্ভাবনাময়
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢেঁড়সের পানি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ফাইবার কার্বোহাইড্রেট শোষণের গতি কমিয়ে দেয়, ফলে হঠাৎ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতাও বাড়াতে সাহায্য করে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা ও বার্ধক্য প্রতিরোধ
ঢেঁড়সের পানিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়, যা ত্বকের বার্ধক্য রোধে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পান করলে ত্বকের বলিরেখা, রোদে পোড়া দাগ (ট্যান) কমাতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের প্রাকৃতিক জেল্লা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
প্রদাহ কমিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
ঢেঁড়সে থাকা কোয়ারসেটিন ও বিভিন্ন ফ্লাভনয়েড উপাদানে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য। এসব উপাদান শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন সি সংক্রমণ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
ব্যবহারে সতর্কতা
যদিও ঢেঁড়সের পানি উপকারী, তবে অতিরিক্ত সেবন বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘদিনের রোগ রয়েছে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।
সহজলভ্য ও প্রাকৃতিক এই পানীয় শরীরের বিভিন্ন উপকারে আসতে পারে। তবে এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত করে ঢেঁড়সের পানি পান করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।
#2#